ভাই, সত্যি বলছি - রাঁচিতে গতকাল যা হলো, সেটা দেখে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল!
টেস্টে ২-০ তে বাজেভাবে হারের পর সবাই ভাবছিল ভারত কি আদৌ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? অনেকে তো বলাই শুরু করে দিয়েছিল - "কোহলি-রোহিতের দিন শেষ", "নতুন প্লেয়ার আনো"... এসব আর কি।
কিন্তু কিং কোহলি যে কিং, সেটা বারবার প্রমাণ করেন। গতকালও করলেন। আর কীভাবে!
সেঞ্চুরির পর যা হলো...
কোহলি যখন সেঞ্চুরি পূরণ করলেন, পুরো স্টেডিয়াম পাগল হয়ে গেল। কিন্তু সবচেয়ে মজার ঘটনা তখনও বাকি!
এক ভক্ত সিকিউরিটি ডিঙিয়ে সোজা মাঠে! দৌড়ে গিয়ে কোহলির পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম। কোহলিও হাসিমুখে তাকে তুলে দিলেন। এই মুহূর্তটা এখন পুরো ইন্টারনেটে ভাইরাল!
ধোনির শহরে কোহলির এই "বিরাট" মুহূর্ত - রাঁচির ফ্যানরা কপাল খুলে গেছে বলতে হবে!
১৩৫ রান, ৭টা ছক্কা - ভিনটেজ কোহলি!
১২০ বলে ১৩৫। এর মধ্যে ১১টা বাউন্ডারি, ৭টা আকাশছোঁয়া ছক্কা।
জানেন সবচেয়ে মজার ব্যাপারটা কী? কোহলি সাধারণত প্রথম ১০ ওভারে ছক্কা মারেন না। কিন্তু গতকাল? প্রথম ১০ ওভারেই ২টা ছক্কা হাঁকালেন! একটা বার্গারের বলে মিড-অফের ওপর দিয়ে - দেখেই বোঝা যাচ্ছিল আজ মেজাজে আছেন।
আর যখন সাবরায়েনের বিপক্ষে একই ওভারে ২টা ছক্কা মারলেন, তখন বুঝে গেলাম - আজ কিছু একটা হবে!
সচিনের রেকর্ড গেল!
এটাই সবচেয়ে বড় খবর।
সচিন টেন্ডুলকারের ছিল একটা ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ৫১টা সেঞ্চুরি - টেস্টে। কোহলি এখন ওয়ানডেতে ৫২টা সেঞ্চুরি করে এই রেকর্ড নিজের করে নিলেন।
ভাবতে পারেন? ৩৭ বছর বয়সে এই ক্ষুধা! সেহওয়াগ তো টুইটে লিখেই দিলেন - "আজ ভি ভুখ ওহি, জুনুন ওহি। King stays King!"
একদম সঠিক কথা।
রোহিতও বসে নেই কিন্তু...
রোহিত শর্মাও কম যান না! ৫৭ রানের ইনিংসে উনি ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ছক্কার বিশ্বরেকর্ড করে ফেললেন।
শহীদ আফ্রিদির ৩৫১ ছক্কার রেকর্ড ছিল ১৫ বছর ধরে। রোহিত সেটা ভাঙলেন মার্কো জ্যানসেনকে পুল করে। হিটম্যান যখন ফর্মে থাকেন, তখন বোলারদের কোনো উপায় নেই!
কোহলি-রোহিত মিলে ১৩৬ রানের পার্টনারশিপ করলেন। পুরনো দিনের সেই জুটি ফিরে এলো যেন!
ম্যাচটা কিন্তু সহজ ছিল না...
এখানে একটু সৎ থাকি।
ভারত ৩৪৯ করেছিল ঠিকই, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা প্রায় জিতেই যাচ্ছিল! মার্কো জ্যানসেন আর করবিন বশ মিলে যা তাণ্ডব চালাল...
জ্যানসেন মাত্র ৩৯ বলে ৭০! বশ ৫১ বলে ৬৭! দুজনে মিলে ৯৭ রানের পার্টনারশিপ। একসময় মনে হচ্ছিল ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যাবে।
শেষ ১০ বলে দরকার ছিল ১৯ রান। বশ একা মাঠে। কিন্তু আর্শদীপ সিং-এর ইয়র্কারের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারলেন না।
হুফ! বুকের ওপর থেকে পাথর নামল!
কুলদীপ যাদব - আসল হিরো!
কোহলি ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পেয়েছেন ঠিকই। কিন্তু আমার মতে আসল গেম-চেঞ্জার ছিলেন কুলদীপ যাদব।
কেন বলছি শুনুন।
যখন জ্যানসেন-বশ তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তখন সবাই হাত-পা গুটিয়ে বসে। কিন্তু কুলদীপ? একই ওভারে ব্রিটজকে (৭২) আর জ্যানসেন (৭০) - দুজনকেই ফেরালেন!
এই দুই উইকেট না পড়লে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যেত। ১০ ওভারে ৪ উইকেট - চায়নামেন যাদু দেখালেন!
হর্ষিত রানার ঝড়
তরুণ পেসার হর্ষিত রানা দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন। প্রথম ওভারেই দুই উইকেট!
রিকেলটন আর কুইন্টন ডি কক - দুজনকে প্যাভিলিয়নে পাঠালেন। নতুন বলে যে সুইং হচ্ছিল, সেটা দক্ষিণ আফ্রিকা সামলাতেই পারল না।
প্রথম ৫ ওভারে ৩ উইকেট! এই চাপ থেকে প্রোটিয়ারা শেষ পর্যন্ত বেরোতে পারেনি।
স্কোরবোর্ড দেখে নিন
ভারত ইনিংস:
• বিরাট কোহলি - ১৩৫ (১২০)
• কেএল রাহুল - ৬০ (৫৬)
• রোহিত শর্মা - ৫৭ (৫১)
• টোটাল: ৩৪৯/৮ (৫০ ওভার)
দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস:
• ম্যাথিউ ব্রিটজকে - ৭২ (৮০)
• মার্কো জ্যানসেন - ৭০ (৩৯)
• করবিন বশ - ৬৭ (৫১)
• টোটাল: ৩৩২ অল আউট (৪৯.২ ওভার)
বোলিং হাইলাইটস:
কুলদীপ যাদব: ১০-০-৬৮-৪
হর্ষিত রানা: ৮-০-৫৫-৩
ফলাফল: ভারত ১৭ রানে জয়ী!
কোহলির রেকর্ড ভাঙার লিস্ট
শুধু একটা ইনিংসে কত রেকর্ড ভাঙলেন দেখুন:
৫২তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি - একটা ফরম্যাটে সবার সেরা
৮৩তম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি - সচিনের পরেই
১০০তম ৫০+ স্কোর - মাত্র চতুর্থ ব্যাটার এই কীর্তি করলেন
৩ নম্বরে সর্বোচ্চ ছক্কা - পন্টিংকে ছাড়িয়ে গেলেন (২২৩)
সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি - ৬টা
রেকর্ড কোহলিকে খুঁজছে, কোহলি রেকর্ড খুঁজছেন না!
টেস্ট হারের জবাব দিলেন!
মনে আছে কয়দিন আগের কথা?
গুয়াহাটিতে ৪০৮ রানে হার। ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টেস্ট হার রানের ব্যবধানে! সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই গালাগালি করছিল।
"কোহলি ফর্মে নেই", "রোহিত শেষ", "দল বদলাও" - এসব তো কম শুনিনি আমরা।
কিন্তু চ্যাম্পিয়নরা এভাবেই জবাব দেন। মাঠে। ব্যাট দিয়ে।
পরের ম্যাচ কবে?
৩ ডিসেম্বর, রায়পুর।
ভারত চাইবে সিরিজ পকেটে পুরতে। দক্ষিণ আফ্রিকা চাইবে ফিরে আসতে।
তবে এই ফর্মে থাকলে ভারতকে হারানো কঠিন হবে। কোহলি-রোহিত যদি আবার এভাবে খেলেন, তাহলে প্রোটিয়াদের কোনো চান্স নেই!
শেষ কথা 💭
৬৮১ রান হয়েছে এই ম্যাচে। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ!
দুই দলই দুর্দান্ত খেলেছে। কিন্তু জয় একজনেরই হয়। আর সেটা ভারতের।
আর এই জয়ের নায়ক? ৩৭ বছরের সেই "বুড়ো" যাকে সবাই শেষ বলে দিয়েছিল। কিন্তু কোহলি প্রমাণ করলেন - ক্ষুধা থাকলে বয়স কোনো ব্যাপার না!
পরের ম্যাচে আবার দেখা হবে। ততদিন - জয় হিন্দ! 🇮🇳
আরও স্পোর্টস আপডেটের জন্য TakAlliance.com ফলো করুন!
Comments