গতকাল রাতে ঘুম আসেনি। মাথায় একটাই চিন্তা - রায়পুরে কী হবে? ভারত ৩৫৮ রান করেছে, কোহলি-গায়কোয়াড় দুজনেই সেঞ্চুরি করেছে, তাহলে তো জিতবেই। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা যেভাবে চেজ করল, সেটা দেখে মনে হলো ক্রিকেট সত্যিই অনির্দেশ্য খেলা। চার উইকেটে, চার বল বাকি রেখে ৩৬২ রান! এই হলো আসল থ্রিলার।

আজ সকালে উঠে ফেসবুকে দেখি সবাই একটাই কথা বলছে - "আজ বিশাখাপত্তনমে ফাইনাল! সিরিজ ১-১, এখন যে জিতবে সেই চ্যাম্পিয়ন!" আমাদের ক্রিকেট ফ্যান গ্রুপে ৫০টার বেশি মেসেজ এসেছে রাতে। কেউ বলছে ভারত জিতবে, কেউ বলছে দক্ষিণ আফ্রিকার মোমেন্টাম আছে। আর আমি? আমি শুধু জানি আজকের ম্যাচ মিস করা যাবে না।

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ ডিসাইডার ১-১ বিরাট কোহলি এইডেন মার্কর্যাম ওয়ানডে ক্রিকেট taka alliance bangladesh

সিরিজ ডিসাইডার - ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্যানরা প্রস্তুত!

রায়পুরের সেই রাত যখন হার্ট অ্যাটাক এসেছিল

সত্যি বলতে, রায়পুরে ম্যাচ দেখতে দেখতে তিনবার মনে হয়েছিল হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে। প্রথমবার যখন কোহলি ১০২ করল। মনে হলো এবার পাক্কা ভারত জিতবে। আমার এক বন্ধু রাসেল হোয়াটসঅ্যাপে লিখল, "ভাই, ভারত ৩৫০ প্লাস করেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা কখনো তাড়া করতে পারবে না।"

দ্বিতীয়বার যখন দক্ষিণ আফ্রিকা ১০১ রানে দ্বিতীয় উইকেট পার্টনারশিপ করল। মার্কর্যাম আর বাভুমা একদম কনফিডেন্টলি খেলছিল। মনে হচ্ছিল যেন এটা ২০০ রানের টার্গেট, ৩৬০ না। আমি ভাবছিলাম, "কী হচ্ছে? ভারতীয় বোলাররা কি একটুও চাপ দিতে পারছে না?"

তৃতীয়বার যখন শেষ পাঁচ ওভারে ৫০ রান লাগছিল। ব্রিটজকে আর ব্রেভিস দুজনেই আউট হয়ে গেছে। মনে হলো এবার তো ভারত জিতবেই। কিন্তু বোশ আর মহারাজ এমনভাবে খেললেন যে শেষ চার বলে মাত্র ৭ রান লাগছিল। আর তারপর জিতে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা! আমার হাতের চায়ের কাপ পড়ে গিয়েছিল মেঝেতে।

বাংলাদেশি ফ্যানরা কী ভাবছে?

বাংলাদেশে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ মানে বিশাল ব্যাপার। আমরা যদিও এই সিরিজে খেলছি না, তবুও আমাদের আগ্রহ কম না। কেন? কারণ আমরা ক্রিকেট পাগল। আর এই ধরনের উচ্চমানের ক্রিকেট দেখতে আমরা সবাই পছন্দ করি।

আমার এক বন্ধু সাকিব, যে ঢাকায় থাকে, সে বলল, "ভাই, আমি রাতে ২টা পর্যন্ত ম্যাচ দেখেছি। অফিসে আজ ঘুমের ঘোরে বসে আছি, কিন্তু মজা পেয়েছি।" এই হলো ক্রিকেটের ম্যাজিক। ঘুম নষ্ট হোক, পরদিন অফিসে ঝিমুনি আসুক, কিন্তু ভালো ম্যাচ মিস করা যায় না।

ঢাকার বিভিন্ন চা-এর দোকানে গতকাল সন্ধ্যায় ভিড় ছিল। বড় টিভি স্ক্রিনে ম্যাচ দেখছে সবাই। প্রতিটা ছক্কায় হৈচৈ, প্রতিটা উইকেটে চিৎকার। মনে হচ্ছিল যেন বাংলাদেশ নিজেই খেলছে। এই হলো আমাদের ক্রিকেট প্রেম।

কোহলির আরেকটা সেঞ্চুরি - এই মানুষ কি বুড়ো হয় না?

বিরাট কোহলি সম্পর্কে আর কী বলব? ৩৭ বছর বয়সে এমন ফিটনেস, এমন ফর্ম - এটা অবিশ্বাস্য। গতকাল ৭৬ বলে ১০২ রান। আর এটা তার পর পর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে পর পর সেঞ্চুরি করা তার জন্য এখন একদম স্বাভাবিক ব্যাপার - ১১ বার করেছে এই কাজ। যেটা অন্য কোনো ব্যাটসম্যান করতে পারেনি।

আমার এক বন্ধু, যে দক্ষিণ আফ্রিকা সাপোর্ট করে, সেও স্বীকার করল, "কোহলি যখন মাঠে থাকে, মনে হয় যেন ম্যাচ এখনো শেষ হয়নি। এই লোক যেকোনো সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।" সত্যি বলতে, কোহলি এখন শুধু একজন ব্যাটসম্যান না, সে একটা প্রতিষ্ঠান। একটা ব্র্যান্ড।

গায়কোয়াডের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি নিয়েও কথা বলতে হয়। ১০৯ বলে ১০৫ রান। চার নম্বরে খেলছে, যেটা তার স্বাভাবিক পজিশন না। কিন্তু তাও এত শান্তভাবে, এত পরিপক্বভাবে খেলল যে মনে হলো সে এই পজিশনেই সারাজীবন খেলেছে। ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এই ছেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে।

রায়পুর ম্যাচের মূল পরিসংখ্যান

ভারত ৩৫৮/৫ (৫০ ওভার):
রুতুরাজ গায়কোয়াড় ১০৫, বিরাট কোহলি ১০২, কেএল রাহুল ৬৬*
তৃতীয় উইকেট পার্টনারশিপ: ১৯৫ রান (কোহলি-গায়কোয়াড়)

দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৬২/৬ (৪৯.২ ওভার):
এইডেন মার্কর্যাম ১১০, ম্যাথু ব্রিটজকে ৬৮, ডিওয়াল্ড ব্রেভিস ৫৪
জয়ের মার্জিন: ৪ উইকেট, ৪ বল বাকি

হাইলাইট: ভারতের বিরুদ্ধে যৌথ-সর্বোচ্চ সফল চেজ
দক্ষিণ আফ্রিকার তৃতীয় সর্বোচ্চ ওয়ানডে চেজ

মার্কর্যামের ইনিংস - যেটা সিরিজ সমান করে দিল

এইডেন মার্কর্যাম। এই নামটা এখন সবার মুখে মুখে। ৯৮ বলে ১১০ রান। শুধু রান না, তার খেলার ধরন দেখে মনে হচ্ছিল যেন এটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ভারতের স্পিনারদের, বিশেষ করে ওয়াশিংটন সুন্দর আর জাদেজাকে এমনভাবে আক্রমণ করল যে মনে হচ্ছিল এরা নেট বোলিং করছে।

আমার এক বন্ধু তারিক, যে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় ফ্যান, সে পুরো ম্যাচে চিৎকার করছিল। "মার্কর্যাম! মার্কর্যাম! আরেকটা ছক্কা!" মার্কর্যাম যখন সেঞ্চুরি করল, তারিক এত জোরে চিৎকার করল যে পাশের ফ্ল্যাটের মানুষ জিজ্ঞেস করতে এসেছিল কী হয়েছে।

মার্কর্যামের পর যারা এসেছিল - ব্রিটজকে, ব্রেভিস, বোশ, মহারাজ - সবাই তাদের কাজ করেছে। এটাই দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তি। একজন না পারলে আরেকজন দায়িত্ব নেয়। এই ব্যাটিং গভীরতা ভারতের জন্য চিন্তার বিষয়।

বেটিং প্রেডিকশনে হৈচৈ কাণ্ড

এই ধরনের সিরিজে বেটিং আর প্রেডিকশনের ব্যাপারটা অন্যরকম মাত্রা নেয়। আমার এক পরিচিত ফারুক, যে নিয়মিত ক্রিকেট ম্যাচে প্রেডিকশন করে, সে বলছিল, "এই সিরিজে প্রতিটা ম্যাচ এতটাই আনপ্রেডিক্টেবল যে প্রেডিকশন করা কঠিন। কিন্তু সেটাই তো মজা!"

বিশেষ করে বাংলাদেশে taka alliance bangladesh এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই সিরিজ নিয়ে বিশাল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ফারুক বলছিল, "এখানে তুমি শুধু ম্যাচ দেখো না, প্রেডিকশন করো, কমিউনিটিতে আলোচনা করো। পুরো অভিজ্ঞতাটাই আলাদা।"

রায়পুরের ম্যাচে যারা ভারতের উপর বেট করেছিল, তারা ৪৫ ওভার পর্যন্ত ভাবছিল জিতে গেছে। কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে সবকিছু ঘুরে গেল। এই হলো ক্রিকেটের সৌন্দর্য - শেষ বল পর্যন্ত কিছু নিশ্চিত না।

আজকের ম্যাচে অবশ্য সিচুয়েশন ভিন্ন। সিরিজ ১-১ সমান। ডিসাইডার ম্যাচ। বিশাখাপত্তনমের পিচ আলাদা। ভারত টস জিতেছে (অবশেষে!) এবং বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন দেখার বিষয় কোন দল চাপ সামলাতে পারে।

আজকের ম্যাচে কী আশা করা যায়?

পিচ কন্ডিশন: বিশাখাপত্তনমের পিচে শুরুতে কিছু পেস, পরে স্পিনারদের সাহায্য

টস ইমপ্যাক্ট: ভারত অবশেষে টস জিতেছে, বোলিং করবে প্রথমে

প্রত্যাশিত স্কোর: ২৮০-৩২০ রানের রেঞ্জ (আগের দুই ম্যাচের চেয়ে কম)

মূল খেলোয়াড়:
ভারত - কুলদীপ যাদব (স্পিন), রোহিত শর্মা (শুরুতে রান)
দক্ষিণ আফ্রিকা - মার্কর্যাম (ফর্মে), জানসেন (নতুন বল)

এক্স-ফ্যাক্টর: যে দল ডেথ ওভারে ভালো করবে, তারাই জিতবে

ভারতের টস দুর্ভাগ্য অবশেষে শেষ হলো

পর পর ২০টা ওয়ানডে ম্যাচে টস হারা - এটা কি করে সম্ভব? কেএল রাহুল নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। প্রতিবার টস করতে যাচ্ছেন, প্রতিবার হারছেন। মনে হচ্ছিল যেন কোনো অভিশাপ লেগেছে।

কিন্তু আজ সেই দুর্ভাগ্য কেটে গেছে। রাহুল টস জিতলেন এবং সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিলেন বোলিং করবেন। কেন? কারণ আগের দুই ম্যাচে দেখা গেছে দ্বিতীয় ব্যাট করা দলের সুবিধা বেশি। শিশির ফ্যাক্টর কাজ করে। বল ব্যাটে ভালো আসে। স্পিনারদের গ্রিপ কমে যায়।

এখন দেখার বিষয় ভারত এই সুবিধাটা কাজে লাগাতে পারে কিনা। প্রথমে বোলিং করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভালো স্কোর থেকে আটকাতে পারলে, তারপর চেজ করা সহজ হবে। কিন্তু যদি দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০০ প্লাস করে ফেলে, তাহলে আবার চাপ তৈরি হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম আর মজা

রায়পুরের ম্যাচের পর সোশ্যাল মিডিয়া একদম ভেসে গেছে। মিমের বন্যা। কেউ ভারতীয় বোলারদের নিয়ে মজা করছে, কেউ মার্কর্যামকে সুপারম্যান বানিয়ে ফেলেছে।

সবচেয়ে ভাইরাল মিম ছিল যেটাতে কোহলি ১০২ রান করে ড্রেসিং রুমে ফিরছেন, আর ক্যাপশন: "আমি আমার কাজ করেছি, বোলাররা তোমাদের কাজ করো।" তারপর পরের ছবিতে ভারতীয় বোলাররা ৩৬২ রান দিয়ে হেরে গেছে।

আরেকটা জনপ্রিয় মিম ছিল রাহুল আর টস নিয়ে। একটা ছবিতে রাহুল টস করতে যাচ্ছেন, আর ক্যাপশন: "২০ বার হারলাম, এবার তো জিতব!" তারপর রায়পুরেও হারলেন। কিন্তু আজ জিতেছেন, তাই নতুন মিম আসবে নিশ্চয়ই।

টুইটারে #IndvsSA আর #CricketMadness ট্রেন্ড করছিল পুরো রাত। বাংলাদেশি ফ্যানরাও অনেক টুইট করেছে, মন্তব্য করেছে। আমাদের দেশে ক্রিকেট শুধু খেলা না, এটা আবেগ।

আজকের ম্যাচের প্রেডিকশন - কে জিতবে?

এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন - আজ কে জিতবে? সত্যি বলতে, এটা বলা খুবই কঠিন। দুই দলই সমানে সমান।

ভারতের পক্ষে যা আছে:

প্রথমত, হোম অ্যাডভান্টেজ। নিজের মাঠে খেলছে, সাপোর্টাররা পুরো স্টেডিয়াম ভর্তি করে ফেলবে। প্রতিটা ভারতীয় উইকেটে গর্জন উঠবে, প্রতিটা ভারতীয় ছক্কায় উল্লাস হবে। এই চাপ দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য নতুন না, কিন্তু সহজও না।

দ্বিতীয়ত, স্পিন অ্যাটাক। কুলদীপ যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা, তিলক বর্মা - তিনজন স্পিনার। বিশাখাপত্তনমের পিচ যদি ঘুরতে শুরু করে, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য খেলা কঠিন হবে। কারণ তাদের স্পিনারের বিরুদ্ধে খেলা সবসময় শক্তিশালী না।

তৃতীয়ত, টস জেতা। অবশেষে! এখন ভারত নিজের শর্তে ম্যাচ খেলতে পারবে। প্রথমে বোলিং করে টার্গেট জেনে চেজ করা - এটা একটা বড় সুবিধা।

দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে যা আছে:

প্রথমত, মোমেন্টাম। রায়পুরে ৩৫৮ রান তাড়া করে জিতেছে। এই আত্মবিশ্বাস অমূল্য। মার্কর্যাম ফর্মে আছে, ব্রিটজকে ফর্মে আছে, ব্রেভিস ফর্মে আছে। এই তিনজন যদি একসাথে ফায়ার করে, তাহলে যেকোনো টার্গেট সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, ভারতের দুর্বল ডেথ বোলিং। শেষ দশ ওভারে ভারত ধারাবাহিকভাবে রান দিচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা এই দুর্বলতা ধরে ফেলেছে। যদি তারা শেষ দশ ওভারে ১০০ রান করে ফেলে, তাহলে ভারতের জন্য ডিফেন্ড করা কঠিন হবে।

তৃতীয়ত, চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা। দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতে এসে টেস্ট সিরিজ ২-০ জিতেছে। এরা জানে কীভাবে চাপের মধ্যে খেলতে হয়। ডিসাইডার ম্যাচে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।

আজকের ম্যাচ দেখবেন কীভাবে?

টিভিতে: স্টার স্পোর্টস নেটওয়ার্ক (সরাসরি সম্প্রচার)

অনলাইনে: JioHotstar অ্যাপ/ওয়েবসাইট (লাইভ স্ট্রিমিং)

কমিউনিটি: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রেডিকশন, আলোচনা

ম্যাচ শুরু: দুপুর ১:৩০ IST

বন্ধুদের সাথে: চা-এর দোকানে, বাসায় বড় স্ক্রিনে

যেভাবেই দেখুন, এই ম্যাচ মিস করবেন না!

ফ্যানদের প্রত্যাশা আর আবেগ

গতকাল সন্ধ্যায় আমার এক বন্ধু জামাল ফোন করল। বলল, "ভাই, কাল অফিসে ছুটি নিয়েছি। পুরো ম্যাচ দেখব। এই ধরনের ডিসাইডার মিস করা যায় না।" জামাল একা না, আরও অনেকে এরকম করেছে। কেউ অফিসে বলেছে অসুস্থ, কেউ বলেছে জরুরি কাজ আছে। সব মিথ্যা। আসল কারণ - ক্রিকেট দেখতে হবে।

ঢাকার বিভিন্ন স্পোর্টস বারে আজ ভিড় হবে। বড় স্ক্রিনে ম্যাচ দেখা, বন্ধুদের সাথে চিৎকার করা, প্রতিটা ছক্কায় হাততালি দেওয়া - এই অভিজ্ঞতা আলাদা। যদিও টিভির দাম বেড়েছে, খাবারের দাম বেড়েছে, কিন্তু ক্রিকেটের ভালোবাসা কমেনি।

আমার আরেক বন্ধু সাদমান, যে সৌদি আরবে থাকে, সে রাত ৩টায় উঠে ম্যাচ দেখবে। বলল, "ভাই, এতদূরে এসেও বাংলাদেশি হৃদয় তো বদলায়নি। ক্রিকেট মানে ক্রিকেট।" এই হলো আমাদের আবেগ।

দুই দলের দুর্বলতা

ভারতের বড় সমস্যা - ডেথ ওভারে বোলিং। শেষ দশ ওভারে প্রায় ১০০ রান দিয়ে দিচ্ছে। এটা কোনো ছোট দলের বিরুদ্ধে চলতে পারে, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে এটা মারাত্মক। অর্শদীপ সিং, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, হর্ষিত রানা - তিনজনকেই আরও চালাক হতে হবে। আরও ভ্যারিয়েশন দরকার।

দক্ষিণ আফ্রিকার বড় সমস্যা - স্পিনের বিরুদ্ধে খেলা। তাদের দলে শুধু একজন স্পেশালিস্ট স্পিনার - কেশব মহারাজ। বাকিরা পার্ট-টাইম। যদি ভারতের স্পিনাররা আজ ফায়ার করে, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা সমস্যায় পড়বে। বিশেষ করে কুলদীপ যাদব, যিনি রাঁচিতে চারটা উইকেট নিয়েছিলেন।

এই সিরিজের পর কী?

এই ওয়ানডে সিরিজের পরে শুরু হবে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ভারত ইতিমধ্যে তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। সূর্যকুমার যাদব অধিনায়ক, অনেক নতুন মুখ আছে। এই টি-টোয়েন্টি সিরিজও হবে মজার।

কিন্তু আজকের ম্যাচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ম্যাচ জিতলে সিরিজ জেতা যাবে। টেস্ট সিরিজ হেরে যাওয়ার পর ভারতের জন্য এই সিরিজ জেতা জরুরি। মনোবল বাড়ানোর জন্য, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য।

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যও এই সিরিজ জেতা মানে হবে পুরো ভারত সফর সফল। টেস্ট জিতেছে, ওয়ানডে জিতলে - এটা হবে ঐতিহাসিক। দীর্ঘদিন পর দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতে এসে এত ভালো করছে।

শেষ কথা - আজ রাতে ইতিহাস লেখা হবে

দুপুর ১:৩০ মিনিট থেকে শুরু হবে ম্যাচ। বিশাখাপত্তনমের স্টেডিয়াম ভর্তি হয়ে যাবে। টিভির সামনে, মোবাইলের স্ক্রিনে, স্পোর্টস বারে, চা-এর দোকানে - সবখানে মানুষ জড়ো হবে।

ভারত জিতবে নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা - এটা নিয়ে তর্ক চলছে, চলতে থাকবে। কিন্তু নিশ্চিত একটা জিনিস - আমরা একটা দুর্দান্ত ম্যাচ দেখতে যাচ্ছি।

যে জিতুক, ক্রিকেট জিতবে। যে হারুক, ফ্যানরা মজা পাবে। কারণ শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট শুধু জয়-পরাজয়ের খেলা না। এটা আবেগের খেলা। এটা ভালোবাসার খেলা।

আজ রাতে যখন শেষ বল বোল করা হবে, যখন আম্পায়ার ফিল্ডের দিকে আঙুল তুলবেন, যখন জয়ী দল উদযাপন করবে - তখন আমরা সবাই একসাথে থাকব। টিভির সামনে, মোবাইলে, বন্ধুদের সাথে।

কারণ এই হলো ক্রিকেট। এই হলো আমাদের খেলা। এই হলো আমাদের আবেগ।

চলুন, একসাথে উপভোগ করি। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ ডিসাইডার। আজ রাতে ইতিহাস লেখা হবে।

চলুন, প্রস্তুত হই!


সিরিজ: ভারত ১-১ দক্ষিণ আফ্রিকা (তৃতীয় ওয়ানডে আজ)
স্থান: ডক্টর ওয়াইএস রাজশেখর রেড্ডি এসিএ-ভিডিসিএ স্টেডিয়াম, বিশাখাপত্তনম
সময়: দুপুর ১:৩০ IST

কীওয়ার্ড: ভারত দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ ডিসাইডার, ক্রিকেট ফ্যান প্রতিক্রিয়া, বিরাট কোহলি মার্কর্যাম, বিশাখাপত্তনম ওয়ানডে, ক্রিকেট প্রেডিকশন, সিরিজ ফাইনাল, ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা লাইভ